login

[Space For AD]

যেখানে বিদেশিদের বাইক নিয়ে একা চলা মানা (নোরালির বিশ্বভ্রমণ,পর্ব -৩)

  • 63
  • 378
  • 40
  • 97

যেখানে বিদেশিদের বাইক নিয়ে একা চলা মানা (নোরালির বিশ্বভ্রমণ,পর্ব -৩)

4 months ago 12

শোয়ায়েব চমক

 

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ভারতের-মিয়ানমারের তামু বর্ডার দিয়ে নোরালি মিয়ানমার প্রবেশ করে। তার আগে ভ্রমণে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। মিয়ানমারে নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি হিসেবে একা একা নিজস্ব বাইক নিয়ে ভ্রমণ করা মানা। একটা গ্রুপে ভ্রমণ করতে হবে, সঙ্গে একজন গাইড থাকবে এবং থাকবে একজন সরকারের প্রতিনিধি। তারা নোরালিকে ছয়দিনের জন্য মিয়ানমার ভ্রমণের অনুমতি দেয়। যদিও গ্রুপে ভ্রমণ করা নোরালির একেবারেই পছন্দ নয়, কিন্তু কি আর আর করা, যে দেশের যে নিয়ম।
নোরালি বেশ ভয় ছিল কারণ বাসন্তির মালিক সে নয়। যদিও তার কাছে এই মোটরসাইকেল চালাবার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট আছে এবং এই বাইক ভারতের বাইওে নেয়ার সরকারি অনুমতিপত্র আছে। তবুও আর মনের মধ্যে কিছু ভয় ছিল। কিন্তু মিয়ানমার কতৃপক্ষ কোন ঝামেলা ছাড়াই বাসন্তীর কাগজে স্ট্যাম্প মেওে দেয়। নোরালির ভয় কেটে যায় যে নাহ্ সে এবার নির্বিগ্নে তার বিশ্বভ্রমণ চালিয়ে যেতে পারবে।

 


ভারত-মিয়ানমার বর্ডার থেকে মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের বর্ডার পর্যন্ত নোরালি এবং তার দল ৫৪ টি লোহার ব্রিজ পার হবে। ১০টি ব্রিজ পার হবার পর একটা ফলক দেখে নোরালি থামল। ফলকে লেখা The Tropical Cancer Pass Here. অর্থাৎ এখান দিয়ে বিষুব রেখা গিয়েছে। এই রেখা নিশ্চয়ই আপনাদের চিনিয়ে দিতে হবে না!! আচ্ছা বিষুব রেখা তো বাংলাদেশের উপর দিয়েও গিয়েছে। আমাদের কি এমন কোন ফলক কোথাও আছে? মিয়ানমারের কালে শহরে সেদিনের মত তার যাত্রার সমাপ্তি হয়।

 

 বাসন্তিকে নিয়ে মিয়ানমারে
বাসন্তিকে নিয়ে মিয়ানমারে

 


পরদিন সকালে শহর থেকে নোরালি যাত্রা শুরু করে ব্যাগান এর দিকে। সাত বছর আগে নোরালি বাগান শহরে এসেছিল, সুতরাং তার কাছে ব্যাগান অচেনা নয়। কিন্তু কালে শহর থেকে ব্যাগান ৯ ঘন্টার বাইক রাইড। নোরালি চাইছিল সকাল সকাল বের হয়ে যেতে। কিন্তু চাইলেই কি আর যাওয়া যায়!! নোরালি চলেছে একটা গ্রুপের সঙ্গে। সকালবেলা যে সরকারি প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে আছেন তিনি একটা ব্রিফিং দিলেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হল, যে যেখানে খুশি যেতে পারে কিন্তু রাতের বেলা সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হবে। নোরালি কোন দিকে না তাকিয়ে বেরিয়ে পড়ল। চিন্তার কিছু নেই কারণ দিনশেষে সবাই ব্যাগানেই আসবে।

 


নয় ঘন্টা বাইক চালিয়ে নোরালি চলে এল ব্যাগান শহরে। এখানে ২০০০ এর উপর মন্দির আছে যা নিঃসন্দেহে দেখার মত। এক রাত ব্যাগান থেকে পরদিন পাঁচ ঘন্টা বাইক চালিয়ে নোরালি চলে এল কালাও শহরে। যদিও পাঁচ ঘন্টার রাইড ছিল কিন্তু এখানে সেখানে থেমে থেমে আসতে আসতে নোরালির প্রায় সাত ঘন্টা লেগে গেল। বিকেল তিনটার দিকে কালাও এ পৌঁছে নির্ধারিত হোটেলে নোরালি তার দিন শেষ করল। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নোরালি বসে গেল তার ট্রাভেল ভিডিওগুলো ইউটিউবের জন্য এডিট করতে আর পরদিনের যাত্রার প্রস্ততি নিতে।

 


আগেই বলেছি নোরালি একা একা ভ্রমণ করতে পছন্দ করে। যদিও মিয়ানমারে অফিসিয়ালি একটা গ্রুপের সঙ্গে আছে কিন্তু দিনের বেলা তারা সবাই যার যার মতই ঘুরে বেড়ায়। তাদের গ্রুপে এক অস্ট্রেলিয়ান দম্পতি আছে পিটার এবং ক্লডিয়া। তারা ভ্রমণ করছে বিশাল বড় সুজুকি ভি-স্ট্রম ১০০০ সিসি মোটরসাইকেলে। এই দম্পতি গত সাত মাস ধরে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছে তাদের এই বিশাল মোটরসাইকেল নিয়ে। ইতিমধ্যে তারা ২৪,০০০ মাইলের উপর ভ্রমণ করেছে। আফগানিস্থান, পাকিস্তান, ভারত হয়ে মিয়ানমারে ঢোকার সময় নোরালির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। ছয়টা মোটরসাইকেলে আটজনের গ্রুপে নোরালি মিয়ানমার ভ্রমণ করছে পিটার এবং ক্লডিয়া সেই গ্রুপের সদস্য। আগে আপনারা জেনেছেন যে নোরালি এক বছর অস্ট্রেলিয়ায় এক স্বর্ণ খনিতে একবছর চাকরি করেছে। তাই অস্ট্রেলিয়ান এই দম্পতির সঙ্গে তার বেশ আলাপ জমে গেল। তাদের সঙ্গে পরদিন নোরালি রওনা দিল কালাও থেকে নামচাং শহরের দিকে। পিটার এবং ক্লদিয়ার ১০০০ সিসি সুজুকি ভি-স্ট্রর্ম এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নোরালির ৪১১ সিসির রয়াল এনফিল্ড হিমালয়ান বাসন্তীকে বেশ কষ্টই করতে হয়েছে। কিন্তু নোরালির মতে এই ভ্রমণটা তার জন্য অনেক শিক্ষণীয় ছিল বিশেষ করে পিটার এবং ক্লদিয়ার দেশ বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শোনা।

 

মিয়ানমারের পথে
মিয়ানমারের পথে

 


পরদিন নোরালি একাই আবার রওনা দিল। শুরুতে বলেছিলাম মিয়ানমার ভ্রমণে নোরালি এবং তার দলকে ৫৪টি ব্রিজ পার হতে হবে। কোথাও কোন সমস্যা না হলেও এই দিন একটি ব্রিজে নোরালিকে আটকে দেয়া হল। বলা হল, গ্রুপের সবাই একসঙ্গে না হলে এই ব্রিজ পার হওয়া যাবে না। বাধ্য হয়ে নোরালিকে ব্রিজের পাশে অপেক্ষায় থাকতে হল। একে একে সব বাইকাররা আসার পর তাদের গাইড এবং সরকারি প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তারা একসঙ্গে ব্রিজ পার হল। নামচাং থেকে দীর্ঘ ১০ ঘন্টা বাইক চালিয়ে নোরালি চলে এল মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের বর্ডারের কাছে মংলিং শহরে। লম্বা ভ্রমণের ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত নোরালি ঢলে পড়ল বিছানায়। কারণ তার ঘুম দরকার। পরদিন সে যাচ্ছে থাইল্যান্ড

 

 

[Space For AD]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Subscribe to the newsletter
Please log in to share your opinion

Related Posts

Image

[Space For AD]

Subscribe to the newsletter